বেহেশতী যেওর (আশরাফ আলী থানভী): নারীদের দ্বীনি ও দাম্পত্য জ্ঞানের গ্রন্থ — সারাংশ
IMB সম্পাদকীয় পর্ষদ · ৫ অক্টোবর, ২০২৬ · পড়তে সময় প্রায় ৩ মিনিট
উপমহাদেশের ঘরে ঘরে বহুদিন ধরে পরিচিত একটি নাম — বেহেশতী যেওর। গ্রন্থটির লেখক মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ নারীরা যেন তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান সহজ ভাষায় শিখতে পারেন।
بہشتی زیور — مولانا اشرف علی تھانوی
বেহেশতী যেওর — মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
নোট: এই সারাংশ আমাদের নিজস্ব ভাষায়; বিস্তারিত মূল বইয়ে দেখুন।
বইটির পরিচিতি
- ভাষা: মূলত উর্দু; বাংলাসহ বহু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।
- বিন্যাস: প্রসিদ্ধ সংস্করণ দশটি অংশে বিভক্ত।
- লক্ষ্য পাঠক: বিশেষত নারী ও পরিবার; ভাষা সহজ ও ব্যবহারিক।
বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ
বইটিতে সাধারণত যে ধরনের বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে:
- আকীদা ও ঈমান — মৌলিক বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত শিক্ষা।
- পবিত্রতা, নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ — নারীদের নির্দিষ্ট মাসআলাসহ।
- লেনদেন ও আর্থিক বিষয় — ব্যবহারিক নির্দেশনা।
- বিয়ে ও দাম্পত্য — বিয়ের নিয়ম, স্বামী-স্ত্রীর হক, মোহর, তালাক ও ইদ্দতের বিধান (বিয়ের রুকন ও শর্ত, মোহর, তালাক ও খোলা)।
- আদব-আখলাক ও ঘরোয়া জীবন — সন্তান লালন, পরিবারের সদস্যদের সাথে আচরণ (স্বামী-স্ত্রীর হক)।
- বিবিধ ঘরোয়া ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরামর্শ — তৎকালীন প্রেক্ষাপটে লেখা।
বইটির ভালো দিক
- সহজ, গৃহস্থালির ভাষা — সাধারণ পাঠকের জন্য বোধগম্য।
- হানাফী মাযহাবের মাসআলা একত্রে পাওয়া যায়।
- নারীদের জন্য আলাদা মাসআলা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করেছে।
পাঠকের জন্য সতর্কতা
- সময়ের পরিবর্তন: বইটি প্রায় এক শতাব্দী আগে লেখা; কিছু সামাজিক পরামর্শ, চিকিৎসা-ঘরোয়া ব্যবস্থা ও পরিভাষা আধুনিক বাস্তবতায় আলেম ও চিকিৎসকের পরামর্শের সাথে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
- সংস্করণ-ভেদ: বিভিন্ন প্রকাশনীর সংস্করণ ও অনুবাদে পার্থক্য থাকতে পারে; নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা বাছুন।
- আইনি বিষয়: বিয়ে-তালাকের বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া (বাংলাদেশ) বইয়ে নেই (নিবন্ধন, বহুবিবাহের আইন)।
- বিতর্কিত মাসআলা: কোনো মাসআলায় দ্বিধা হলে যোগ্য মুফতীর কাছে যান।
পরিবারে কীভাবে ব্যবহার করবেন
- নতুন দম্পতিকে বিয়ের আগে-পরে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক অধ্যায় পড়তে দিন।
- নারীদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য বইয়ের সাথে নির্ভরযোগ্য কুরআন-হাদীস-ভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ রাখুন।
- স্ত্রীর জ্ঞানার্জনে স্বামী ও পরিবার সহায়তা করুন — এটি দাম্পত্য সুখের অংশ।
লেখক পরিচিতি
মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) (১৮৬৩–১৯৪৩) থানাভবনের বিখ্যাত আলেম ও সংস্কারক, যিনি ফিকহ, তাফসীর, তাসাউফ ও সমাজসংস্কারে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। উপমহাদেশে নারীদের দ্বীনি শিক্ষাকে সহজ ও ব্যবহারিক ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল; বেহেশতী যেওর তার প্রমাণ।
কেন বইটি গৃহস্থালির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল
বই-পুস্তকের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল এমন যুগে ঘরে বসে একজন নারী যেন নামায, রোযা, পবিত্রতা, লেনদেন ও দাম্পত্যের মৌলিক মাসআলা শিখতে পারেন — সেই লক্ষ্যে বইটি লেখা। এজন্য ভাষা ছিল সরল, উদাহরণ ছিল দৈনন্দিন জীবনের। এই পদ্ধতি পরবর্তী নারী-শিক্ষামূলক বইগুলোকেও প্রভাবিত করেছে।
আজ কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ভিত্তি-জ্ঞান হিসেবে: মৌলিক ইবাদত ও মাসআলার জন্য ব্যবহার করুন।
- মাসআলার সূত্র হিসেবে: কোনো বিষয়ে প্রশ্ন জাগলে সংশ্লিষ্ট অধ্যায় দেখুন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মুফতীর সাথে মিলিয়ে নিন।
- সামাজিক-সাংস্কৃতিক অংশ: সময়ের পরিবর্তনের কারণে কিছু পরামর্শ আধুনিক প্রেক্ষাপটে সমন্বয় করুন।
- চিকিৎসা-সংক্রান্ত অংশ: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করবেন না।
বিয়ে-দাম্পত্য অংশের সঙ্গে সমকালীন বিষয় মেলানো
বইয়ে বিয়ের শরয়ী নিয়ম আলোচিত হলেও বাংলাদেশের বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া (নিবন্ধন, বহুবিবাহের অনুমতি, তালাকের নোটিশ) নেই। সেগুলোর জন্য দেখুন নিকাহনামা, বহুবিবাহের আইন, তালাক ও খোলা।
নারীর দ্বীনি শিক্ষা — আজকের চ্যালেঞ্জ
আজ ইন্টারনেট ও অ্যাপে দ্বীনি জ্ঞানের উৎস অনেক। কিন্তু উৎস যাচাই না করলে ভুল তথ্য ছড়ায়। তাই নির্ভরযোগ্য আলেমদের তত্ত্বাবধানে পাঠ, নারী-আলেমা বা শিক্ষিকার সাথে আলোচনা এবং কুরআন-সুন্নাহর মূল উৎসে ফিরে যাওয়া — এই তিনটি অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারে স্ত্রী-কন্যার দ্বীনি শিক্ষায় সহায়তা করা স্বামী-পিতার দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: ফিকহুস সুন্নাহ, তুহফাতুল আরূস। প্রশ্নের জন্য যোগাযোগ করুন।
তথ্যসূত্র
- মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.), বেহেশতী যেওর (উর্দু: بہشتی زیور) — মূল গ্রন্থ ও এর বাংলা অনুবাদসমূহ
কুরআন-হাদীসের রেফারেন্স প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় টিম যাচাই করেছে; বিস্তারিত মাসআলার জন্য নির্ভরযোগ্য মুফতী/আলেমের পরামর্শ নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বেহেশতী যেওর কার লেখা?
ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) (১৮৬৩–১৯৪৩)-এর লেখা উর্দু গ্রন্থ। নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান সহজ ভাষায় উপস্থাপন এর উদ্দেশ্য ছিল।
বইটি কি শুধু নারীদের জন্য?
মূলত নারীদের লক্ষ্য করে লেখা, তবে পরিবারের সবার জন্যই উপকারী অনেক বিষয় এতে আছে।
লিখিত মাসআলা জিজ্ঞেস করুন
শরীয়তের কোনো বিষয়ে জানতে চান? লিখে পাঠান, আমাদের মুফতী সাহেবদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
অসহায়দের পাশে দাঁড়ান
বিধবা, গরিব ও অসহায়দের জন্য যাকাত ও সদকা দিন — প্রতিটি দানের রসিদ পাবেন।
শরীয়াহ-সম্মত বিবাহ নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশ্ন আছে?
যোগাযোগ করুন