IMB
← ব্লগে ফিরে যানবিবাহের প্রস্তুতি ও পাত্র-পাত্রী

ইস্তিখারার নামায ও বিয়ের সিদ্ধান্ত: নিয়ম, দোয়া ও ভুল ধারণা

IMB সম্পাদকীয় পর্ষদ · ৫ অক্টোবর, ২০২৬ · পড়তে সময় প্রায় ৩ মিনিট

IMB

বিয়ে জীবনের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত। প্রস্তাব এলে মনে প্রশ্ন জাগে — এই সিদ্ধান্ত কি আমার জন্য কল্যাণকর হবে? এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন ইস্তিখারা, অর্থাৎ আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা।

ইস্তিখারার নিয়ম

জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে সকল বিষয়ে ইস্তিখারা শেখাতেন, যেমন কুরআনের সূরা শেখাতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করলে যেন ফরয ছাড়া দু’রাকাত নফল নামায পড়ে এই দোয়া পড়ে: (সহীহ বুখারী ১১৬২)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের ওসিলায় আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার ক্ষমতার ওসিলায় সামর্থ্য চাইছি এবং আপনার মহা অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা আপনি ক্ষমতা রাখেন, আমি রাখি না; আপনি জানেন, আমি জানি না; আপনিই অদৃশ্যের পূর্ণ জ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণামের জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন, সহজ করে দিন, অতঃপর তাতে বরকত দিন। আর যদি আপনি জানেন এটি আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণামের জন্য ক্ষতিকর, তবে তা আমার থেকে এবং আমাকে তা থেকে সরিয়ে দিন, এবং যেখানেই হোক কল্যাণ আমার জন্য নির্ধারিত করুন, তারপর আমাকে তাতে সন্তুষ্ট করে দিন।

(দোয়ার ‘هَذَا الْأَمْرَ’ বলার সময় মনে মনে নির্দিষ্ট বিষয়টি স্মরণ করবেন — যেমন অমুকের সাথে বিয়ে।)

ধাপে ধাপে করণীয়

  1. তথ্য যাচাই ও পরামর্শ সম্পন্ন করুন (পাত্র নির্বাচন, পাত্রী নির্বাচন)।
  2. ওযু করে মাকরূহ সময় বাদে দু’রাকাত নফল নামায পড়ুন।
  3. সালামের পর দোয়া পড়ুন, প্রয়োজনে বাংলা অর্থ বুঝে।
  4. কিছুদিন লক্ষ্য রাখুন, এবং অভিজ্ঞদের সাথে আলোচনা করুন।
  5. যে পথে মনের স্থিরতা ও সহজতা পান, আল্লাহর উপর ভরসা করে সে পথে এগোন।

ইস্তিখারা ও ইস্তিশারা (পরামর্শ) একসাথে

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:

وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ

আর তাদের সাথে কাজের ব্যাপারে পরামর্শ করুন। — (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৫৯)

সুতরাং ইস্তিখারা অনুভূতির সাধনা, আর ইস্তিশারা যুক্তি ও অভিজ্ঞতার সংযোজন। দুটো মিলেই সঠিক সিদ্ধান্ত গড়ে ওঠে।

প্রচলিত ভুল ধারণা

  • “স্বপ্নে সবুজ বা সাদা দেখলে ভালো, কালো দেখলে খারাপ” — এমন নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা হাদীসে নেই।
  • “সাতদিন করতেই হবে” — নির্দিষ্ট সংখ্যার কথা সহীহ হাদীসে নেই; একবার করাও যথেষ্ট, প্রয়োজনে একাধিকবার করা যায়।
  • “ইস্তিখারা পড়েছি, এখন যাচাইয়ের দরকার নেই” — ভুল। তথ্য যাচাই ও পরামর্শ আবশ্যক।
  • “আমার মন যাকে চায় সেটাই নির্দেশ” — প্রবৃত্তি আর আল্লাহর নির্দেশ এক নয়; কল্যাণকে সামনে রেখে সতর্ক হতে হবে।

ইস্তিখারার পর সিদ্ধান্ত পেছাবেন না

প্রস্তাবে সময়ক্ষেপণ দু’পক্ষের জন্যই কষ্টকর। যথাসম্ভব দ্রুত উত্তর জানিয়ে দিন (বিয়ের প্রস্তাব ও দেখা-সাক্ষাৎ)। অতঃপর আলহামদুলিল্লাহ বলে এগিয়ে গেলে বরকত আসবে ইনশাআল্লাহ।

ইস্তিখারা ও সিদ্ধান্তহীনতা — ভারসাম্য

অনেকে ইস্তিখারাকে ‘কোনো সংকেত না পেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না’ ভেবে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষায় থাকেন। এটি ভুল। ইস্তিখারা হলো আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া এবং এরপর যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নেওয়া। যাচাই, পরামর্শ ও ইস্তিখারা করে প্রস্তাব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর যদি পথ সহজ হয় ও মন স্থির থাকে, আল্লাহর উপর ভরসা করে এগোন। পথ ক্রমাগত বন্ধ হতে থাকলে সেটিও ইঙ্গিত হতে পারে।

পাত্র-পাত্রী উভয়ের জন্য ইস্তিখারা

প্রস্তাব যে দেয়, যাকে দেওয়া হয় এবং অভিভাবক — তিনজনই আলাদাভাবে ইস্তিখারা করতে পারেন। সিদ্ধান্তে মতভেদ হলে অভিজ্ঞ আলেমের মধ্যস্থতা নিন। পরিবারের সবাই একমত না হলেও মূল ব্যক্তির স্বস্তি ও সম্মতি অপরিহার্য (মেয়ের অমতে বিয়ে)।

ইস্তিখারা কখন নয়

হারাম, ফরয বা সুস্পষ্ট ওয়াজিব বিষয়ে ইস্তিখারা করার প্রশ্ন ওঠে না। যেমন, আইনি অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করব কি না — এখানে ইস্তিখারার চেয়ে আগে আইনি ও শরয়ী করণীয় বুঝে নেওয়া জরুরি (আইনি প্রক্রিয়া)। ইস্তিখারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সহায়ক, দায়িত্ব এড়ানোর অজুহাত নয়।

ইস্তিখারার পরে মানসিক অবস্থা

  • মন প্রশান্ত ও পথ সহজ হলে সম্ভবত কল্যাণ — তবু আল্লাহর উপর ভরসা করুন।
  • মনে ভয়, অস্থিরতা ও অযৌক্তিক দ্বিধা থাকলে আবার ইস্তিখারা ও পরামর্শ করুন।
  • কারো কথায় বা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় অন্ধ নির্ভরতা নয়; প্রমাণ, যাচাই ও যুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।

দুআর প্রস্তুতি

ইস্তিখারার দুআ বুঝে পড়ার জন্য বাংলা অর্থ আগে একবার পড়ে নিন। মনোযোগ ও আন্তরিকতা এখানে মূল বিষয়।

বিয়ের প্রস্তুতির পুরো তালিকা দেখুন এখানে। সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন।

তথ্যসূত্র

  1. সহীহ বুখারী ১১৬২ — জাবির (রা.) বর্ণিত ইস্তিখারার দোয়া ও নিয়ম
  2. সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯ — পরামর্শের নির্দেশ
  3. রিয়াদুস সালেহীন, ইস্তিখারা-সংক্রান্ত অধ্যায় — ইস্তিখারার নিয়ম

কুরআন-হাদীসের রেফারেন্স প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় টিম যাচাই করেছে; বিস্তারিত মাসআলার জন্য নির্ভরযোগ্য মুফতী/আলেমের পরামর্শ নিন।

#ইস্তিখারা#ইস্তিখারার দোয়া#ইস্তিখারার নামায#বিয়ের সিদ্ধান্ত#ইস্তিশারা

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ইস্তিখারায় কি স্বপ্ন দেখা জরুরি?

না। স্বপ্ন আসতেও পারে, না-ও পারে। আলেমদের মতে ইস্তিখারার পর মনের প্রবণতা ও পরিস্থিতির অনুকূলতা-প্রতিকূলতা লক্ষ্য করা যথেষ্ট।

ইস্তিখারা কতবার করা যায়?

প্রয়োজনে একাধিকবার করা যায়। সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত বারবার ঝুলিয়ে রাখার চেয়ে পরামর্শ ও বাস্তব বিবেচনায় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভালো।

সেরা ম্যাট্রিমনি ওয়েবসাইট — হালনাগাদ তালিকা

কোন সাইট কার জন্য উপযোগী, কোনটি দ্বিতীয় বিয়ে সমর্থন করে — তুলনামূলক তালিকা, মাপকাঠি ও হালনাগাদের তারিখসহ।

লিখিত মাসআলা জিজ্ঞেস করুন

শরীয়তের কোনো বিষয়ে জানতে চান? লিখে পাঠান, আমাদের মুফতী সাহেবদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

অসহায়দের পাশে দাঁড়ান

বিধবা, গরিব ও অসহায়দের জন্য যাকাত ও সদকা দিন — প্রতিটি দানের রসিদ পাবেন।

শরীয়াহ-সম্মত বিবাহ নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশ্ন আছে?

যোগাযোগ করুন