জোর করে ২য় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ানো জুলুম
মুফতী মামুনুর রশীদ কাসেমী · ৮ নভেম্বর, ২০২৬ · পড়তে সময় প্রায় ২ মিনিট
ওই স্ত্রী আর পরিবার থেকে বড় জালিম কে হতে পারে, যারা তাগুতী আইন ও মামলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ২য় স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করে! স্ত্রী হলো জালিম, স্বামী হলো কাপুরুষ। যারা স্ত্রী বা সমাজকে ভয় পান, অনুগ্রহ করে কখনোই একাধিক বিবাহ করবেন না।
একজন স্ত্রী ও তার পরিবারের কাছে প্রশ্ন
কোনো মানুষকে আইনের ভয়, মামলা-মোকদ্দমার হুমকি কিংবা সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করা কি ন্যায়বিচার?
যদি কোনো স্বামী নিজের ইচ্ছায়, বিবেকের সিদ্ধান্তে কিংবা বাস্তব কোনো যৌক্তিক কারণে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন, সেটি এক বিষয়। কিন্তু ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
দ্বিতীয় স্ত্রীরও অধিকার আছে
একজন নারীর অধিকার যেমন সম্মান ও সুরক্ষার দাবি রাখে, তেমনি দ্বিতীয় স্ত্রীরও সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রয়েছে।
প্রথম স্ত্রীর কষ্ট, অভিমান কিংবা আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু সেই আপত্তির কারণে অন্য একজন নারীর জীবন, সংসার ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই। আইনকে ন্যায়বিচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ কিংবা কাউকে জোর করে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করার অস্ত্র হিসেবে নয়।
স্বামীর দায়ও কম নয়
তবে এখানে স্বামীর দায়ও কোনো অংশে কম নয়। একজন পুরুষ যদি একাধিক বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাঁকে সেই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব, ন্যায়বিচার ও পরিণতি বহন করার মানসিক সাহস রাখতে হবে।
দুই পক্ষের অধিকার রক্ষা করতে না পারলে, শুধু সমাজের ভয় কিংবা প্রথম স্ত্রীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে অন্য একজন নারীর জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া কাপুরুষতার পরিচয়।
মনে রাখতে হবে
দ্বিতীয় বিয়ে করা শুধু নিজের ইচ্ছা পূরণ করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একাধিক মানুষের অধিকার, আবেগ, সম্মান ও ভবিষ্যৎ।
একটি অনুরোধ
যেসব পুরুষ স্ত্রী, পরিবার কিংবা সমাজের চাপ সামলানোর সাহস রাখেন না, তাঁদের প্রতি অনুরোধ: একাধিক বিবাহের সিদ্ধান্ত নেবেন না। কারণ নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে না পারলে তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নিরপরাধ একজন নারীকে।
শরীয়াহ-সম্মত বিবাহ নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশ্ন আছে?
যোগাযোগ করুন